
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
হাফেজ মাওঃ মোঃ মনিরুজ্জামান
পাপী-তাপীদের পাপমুক্তির মাহেদ্রক্ষণ
পবিত্র রমজানুল মোবারক সমাগত। এ মাসের কল্যাণ মুক্তিপাগল বিশ্বাসী মানুষদের
শুদ্ধতার নির্ঝরনী ফোয়ারায় স্নিগ্ধ করে তাদের হৃদয়কে। প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে এ মাসটি
বয়ে আনে জান্নাতি সমীরণ। মাহে রমজান হলো মুমিনদের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল।
আল্লাহপাক এ মাসে দিনে-রাতে মুমিনদের উপর অবারিত রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন।
ইবাদতপাগল মুমিনদের জন্য মাগফিরাতের সকল আয়োজন প্রস্তুত করে রাখেন। মহান আল্লাহ
তায়ালা নিয়ম অনুযায়ী কোন মাসকে অন্য মাসের উপর, কোন দিবসকে অন্য দিবসের উপর
শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন। তেমনি পবিত্র রমজানুল মোবারক হলো উৎকৃষ্ট মাসের অন্যতম
একটি মাস। এ মাসে রাত-দিন সর্বদা মুমিনদের উপর রহমত বর্ষিত হয়। আমলের সওয়াব
বহুগুণে বর্ধিত হয়। জান্নাতের দুয়ার খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দুয়ার বন্ধ করে
দেয়া হয়। পাপিষ্ট শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। রহমত, মাগফিরাত ও মহামুক্তি দেয়া হয়
বান্দাদের। রমজানে রয়েছে শবে কদরের রাত, যা সহ¯্র মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এসব
বৈশিষ্ট্যের অপূর্ব সমাহার মাহে রমজান। রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল বলা যায়।
এককথায় এ মাসটি ইবাদতের উর্বর মওসুম।ইবাদতের এ উর্বর সময়কে বান্দা যথায
ঐকান্তিকতার সাথে কাজে লাগাতে পারলে সামান্য সাধনা, ক্ষুদ্র পরিশীলনী ও অনুশীলনী
দ্বারা প্রশান্তির বারিধারায় স্নাত হয়ে হাসিল করতে পারবে মহান আল্লাহর
মহাসন্তুষ্টি।
রমজান শব্দটি আরবি। ‘রমজুন’ শব্দ থেকে উৎগত হয়েছে।
শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া, ভষ্মীভুত হওয়া। যেহেতু রোজা পালনের মাধ্যমে
মানুষের মনের ক্রোধ, কু-প্রবৃত্তি, হিংসা-বিদ্বেষ সব কিছু ভষ্মীভুত হয়ে যায়, তাই
রোজার এ মাসকে রমজান মাস বলা হয়।রোজা হচ্ছে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি স্তম্ভ। রোজার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, বিরত থাকা। পরিভাষায় রোজা বলা হয় মহান আল্লাহর ফরজ নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে সওয়াবের প্রত্যাশায় সুবহে ছাদেক থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া ও যাবতীয় পানাহার, স্ত্রী সঙ্গে সহবাস তথা যৌনাচার ইত্যাদি প্রভৃতি হতে বিরত থাক।