হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ হাকীম আখতার রহ.
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
لعن الله الناظر والمنظور إليه
যে কুদৃষ্টিকারী এবং যে কুদৃষ্টির পাত্র/পাত্রী উভয়ের প্রতি আল্লাহ পাকের লা’নত ও অভিশাপ। মেশকাত শরীফ
ইবাদত-বন্দেগীর দ্বারা অন্তরে যে নূর অর্জিত হয় তা সংরক্ষণ করাও আল্লাহর পথের পথিকদের গুরুদায়িত্ব। এ গুরুদায়িত্ব তখনই আদায় হতে পারে যখন সৌন্দর্যের ফেরিওয়ালাদের থেকে দৃষ্টিকে সংযত রাখবে। মজলিসে উপস্থিত সুধীমণ্ডলির অধিকাংশই তো ব্যবসায়ী। বলুন তো! অর্থ উপার্জন করা যতটুকু জরুরী, উপার্জিত অর্থ সংরক্ষণ করাও ততটুকু জরুরী নয় কি? গায়রে মাহরাম নারীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করার দৃষ্টান্ত হল, কোন বিত্তবান ডাকাতদের উদ্দেশ্যে বলল, তোমরা আমার সব সম্পদ ছিনিয়ে নাও! যারা সুন্দরীদের দিকে তাকায় তারা যেন একথাই বলে, আমার তাকওয়ার নূর তোমরা নিয়ে যাও! মরণশীল মানুষের সৌন্দর্যের পিছনে পড়ে চিরঞ্জীব মহান আল্লাহ তাআলার সঙ্গে স্থাপিত পবিত্র সম্পর্কের মহান সম্পদ ধ্বংস করে ফেলল। নেক আমলের মাধ্যমে অন্তরে যে নূর সৃষ্টি হয় দৃষ্টি অবনত রেখে, গোনাহ থেকে বিরত থেকে তা রক্ষা করা জরুরী। যদি শয়তান এসে কুমন্ত্রণা দেয়- ওকে দেখলে খুবই ভালো লাগে, তাহলে আমার রচিত এ কবিতা পাঠ করে নিতে পারেন-
ہم ایسی لذتوں کو قابل لعنت سمجھتے ہیں
کہ جن سے رب مرا اے دوستو ناراض ہوتا ہے
হে বন্ধুরা! আমার এমন মজা উপভোগকে অভিশাপের বিষয় মনে করি যাতে আমার রব অসন্তুষ্ট হন।
আপনি এ অশ্লীল পরিবেশে দৃষ্টি সংযত রাখতে পারলে আপনার অন্তরে এমন শক্তিশালী নূর সৃষ্টি হবে যা আপনাকে মহান আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দিবে। আর দৃষ্টি সংযত রাখতে না পারলে যে নূর অন্তরে রয়েছে তা-ও শেষ হয়ে যাবে।
যে কুদৃষ্টি করে তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন। কুদৃষ্টি সাধারাণ কোন গোনাহ নয়, কুদৃষ্টি হল, চোখের যিনা। বুখারী শরীফের হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, فزنا العين النظر চোখের যিনা হল, কুদৃষ্টি। লানত মানে কী? লানত অর্থ হল, আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া, দূরে থাকা। যে সকল নারী অর্ধউলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ায়, নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে তাদের প্রতিও লানত। যারা তাদের দেখছে তাদের প্রতিও লানত। আমাদের এ লানত থেকে আত্মরক্ষা করা আবশ্যক। যারা পীর সাহেবের বদ দুআকে ভয় করেন, শুনে রাখুন! যে রাসূলের দাসত্ব ও আনুগত্যের বিনিময়ে পীর সাহেব পীর হয়েছেন সে রাসূলের বদ দুআকে কতটা ভয় করা উচিৎ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ দুআ করছেন-
لعن الله الناظر والمنظور إليه
হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে আপনার রহমত থেকে বঞ্চিত করুন, দূরে ঠেলে দিন যারা আপনাকে ছেড়ে অন্যের পিছনে ঘুরে মরছে, যাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ অন্যের প্রতি আর তাদেরকেও যারা নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে। তারা তোমার অকৃতজ্ঞ ও অপদার্থ গোলাম। সে আপনার মতো করুণাময় পালনকর্তাকে ছেড়ে আপনার এক অক্ষম ও অপদার্থ গোলামের গোলামে পরিণত হয়েছে।
এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
النساء حبائل الشيطان
নারী হল শয়তানের (পুরুষ) শিকারের ফাঁদ। মেশকাত শরীফ
অর্থাৎ শয়তান নারীর মাধ্যমে পুরুষদেরকে গোনাহের জালে ফাঁসিয়ে দেয়। এ যুগে শয়তান নারীদের বেপর্দা করে আমাদের চলার পথের প্রতিটি কদমে কদমে চক্রান্তের জাল বিছিয়ে রেখেছে। নারীর সুন্দর চেহারা ও চুলের বাহার দেখিয়ে বিপথগামী করে। মূলত যে সকল বিষয় আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে তার সবগুলোই শয়তানের চক্রান্তজাল। চাই নারী হোক, সুন্দর বালক কিংবা অবৈধ সম্পত্তি বা অন্য কোন কিছু। যে সকল উপকরণের মাধ্যমে মানুষ প্রবৃত্তির দাসে পরিণত হয়, গোনাহে লিপ্ত হয় সে সব উপকরণই শয়তানের বিছানো জাল। এ যুগে যেহেতু বেপর্দা ও অশ্লীলতা ব্যাপকতা লাভ করেছে তাই এ সময়ে শয়তানের সবচেয়ে ভয়ানক জাল হল সুন্দর ও আকর্ষণীয় চেহারা।
গায়রে মাহরামদের থেকে শরয়ী পর্দা রক্ষা করার গুরুত্ব
একটি প্রশ্ন হতে পারে- ভাই বৌয়ের সঙ্গে এক দস্তরখানে বসে খাওয়া-দাওয়া করাও কি নিষেধ? আজকাল দেখা যায়, ঘরের কেউ দাড়ি রাখলে, মাথায় গোল টুপি পরলে, আল্লাহ আল্লাহ করলে, আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক দৃষ্টি সংযত রাখার জন্য ভাবী, মামী, চাচী, চাচাতো বোন, খালাতো বোন প্রভৃতি গায়রে মাহরামদের থেকে দৃষ্টি অবনত রাখে, তাদেরকে এড়িয়ে চললে তখন ঘরের সবাই তার ব্যাপারে আপত্তি করতে থাকে। গায়রে মাহরাম নারীদের সংস্পর্শ থেকে তো দূরে থাকতেই হবে। কারণ, নারীর সৌন্দর্যের বিষয় হল, কেউ যদি জানতে পারে তার দশ ফুট দূরে গায়রে মাহরাম নারী আছে তাহলে দূর থেকেই নারীর অস্তিত্ব অনুভব করতে থাকে। আগুনের উত্তাপ কেবল আগুনের সীমা পর্যন্তই সীমিত থাকে না; উত্তাপ সীমা ছাড়িয়ে আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ে। অজ্ঞতা বশত কেউ কেউ বলে থাকে, এক দস্তরখানে চার ভাই তাদের স্ত্রীদেরসহ বসতে সমস্যা কোথায়! প্রত্যেক ভাই একদিকে, বিপরীত দিকে স্ত্রীরা বসবে। আপনি যদি এ কথার উপর আমল করেন আর তাতে আপনার মানসিক অবস্থার অবনতি না হলে আমাকে বলবেন, আল্লাহ তাআলা কী কারণে এ ঘোষণা করেছেন-
تِلْکَ حُدُوْدُ اللهِ فَلَا تَقْرَبُوْهَا
গোনাহের সীমা থেকে বহু দূরে অবস্থান কর। সূরা বাকারা : ১৮৭
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
اللّٰهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ
হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গোনাহের মাঝে পৃথিবীর পূর্ব পশ্চিম সমপরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন। রাসূলে পাকের এ হাদীসের মর্ম কী? এখানে একটি অসম্ভব বিষয়কে শর্তযুক্ত করা হয়েছে অপর একটি অসম্ভব বিষয়ের সঙ্গে। অর্থাৎ পূর্ব-পশ্চিমের সম্মিলন যেমন কখনও ঘটতে পারে না তদ্রƒপ কোন খাঁটি উম্মতও স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে পাপের কালিমা দিয়ে আপন চেহারাকে কলঙ্কিত ও কালিমালিপ্ত করতে পারে না। তো কেউ যদি কাউকে বে-জায়গায় বসিয়ে দেয় যেমন কোন পরনারীর সঙ্গে বসিয়ে দিল তা হলে হাদীসের ভাষ্য মুতাবেক একজন প্রকৃত মুমিনের কর্তব্য হল, সেখান থেকে তৎক্ষণাৎ সরে পড়া। শিথিলতা দেখিয়ে তার পাশে বসে না থাকা। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতি হল কেটে পড়া ও পালিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি।
মনে রাখবেন, শরীয়তের বিধানে পিতা-মাতারও হস্তক্ষেপের কোন অধিকার নেই। আমাদের সকলেরই দৃঢ় বিশ্বাস যে, পিতা-মাতার চেয়ে মহান আল্লাহ পাক অনেক বড় অনেক ঊর্ধ্বে। তো পিতা-মাতা যদি কাউকে পরনারীর সঙ্গে বসতে কিংবা সম্পর্ক রাখতে বলে তা হলে কোমলভাবে, নরম স্বরে বলুন, আম্মাজান! আব্বাজান! মহান আল্লাহ পাকের নির্দেশের কারণে এক্ষেত্রে আমি একেবারে অপারগ ও অনন্যোপায় (তাই এক্ষেত্রে আপনাদের কথা রক্ষা করতে পারছি না।) এছাড়া আমি আপনাদের পেশাব-পায়খানা পরিষ্কার করতেও সানন্দে প্রস্তুত। এমন কি আপনাদের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত তবে খোদার দোহাই মহান পরওয়ারদিগারের নাফরমানীর নির্দেশ দিয়ে আমাকে জাহান্নামের ইন্ধন বানাবেন না। সাধ থাকলে এ ব্যাপারে সব উলামায়ে কেরাম থেকে ফতোয়া লিখিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে কেউ যদি এ ওযর দেখায় যে, ঘর ছোট, কামরা কম আলাদা আহার করার সুযোগ নেই তা হলে আমি বলব, সময় পরিবর্তন করে আহার করুন। এক সময়ে সকল মহিলারা একত্রে খেয়ে নিবে। তার পর পরই পুরুষরা খেয়ে নিবে। কিংবা পুরুষরা আগে খেয়ে নিবে তারপর মহিলারা আহার করবে। জামাতের সঙ্গে একত্রে খাওয়ার আবশ্যকীয়তা কোথায় পেলেন? জামাতের সঙ্গে একত্রে নামায পড়া ওয়াজিব, না জামাতের সঙ্গে একত্রে আহার করা? বিষয়টি ভালোভাবে মনে রাখবেন। ভালোভাবে মনে রাখবেন। ভালোভাবে মনে রাখবেন।
অনুবাদ, মাওলানা আব্দুল মুমিন
لعن الله الناظر والمنظور إليه
যে কুদৃষ্টিকারী এবং যে কুদৃষ্টির পাত্র/পাত্রী উভয়ের প্রতি আল্লাহ পাকের লা’নত ও অভিশাপ। মেশকাত শরীফ
ইবাদত-বন্দেগীর দ্বারা অন্তরে যে নূর অর্জিত হয় তা সংরক্ষণ করাও আল্লাহর পথের পথিকদের গুরুদায়িত্ব। এ গুরুদায়িত্ব তখনই আদায় হতে পারে যখন সৌন্দর্যের ফেরিওয়ালাদের থেকে দৃষ্টিকে সংযত রাখবে। মজলিসে উপস্থিত সুধীমণ্ডলির অধিকাংশই তো ব্যবসায়ী। বলুন তো! অর্থ উপার্জন করা যতটুকু জরুরী, উপার্জিত অর্থ সংরক্ষণ করাও ততটুকু জরুরী নয় কি? গায়রে মাহরাম নারীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করার দৃষ্টান্ত হল, কোন বিত্তবান ডাকাতদের উদ্দেশ্যে বলল, তোমরা আমার সব সম্পদ ছিনিয়ে নাও! যারা সুন্দরীদের দিকে তাকায় তারা যেন একথাই বলে, আমার তাকওয়ার নূর তোমরা নিয়ে যাও! মরণশীল মানুষের সৌন্দর্যের পিছনে পড়ে চিরঞ্জীব মহান আল্লাহ তাআলার সঙ্গে স্থাপিত পবিত্র সম্পর্কের মহান সম্পদ ধ্বংস করে ফেলল। নেক আমলের মাধ্যমে অন্তরে যে নূর সৃষ্টি হয় দৃষ্টি অবনত রেখে, গোনাহ থেকে বিরত থেকে তা রক্ষা করা জরুরী। যদি শয়তান এসে কুমন্ত্রণা দেয়- ওকে দেখলে খুবই ভালো লাগে, তাহলে আমার রচিত এ কবিতা পাঠ করে নিতে পারেন-
ہم ایسی لذتوں کو قابل لعنت سمجھتے ہیں
کہ جن سے رب مرا اے دوستو ناراض ہوتا ہے
হে বন্ধুরা! আমার এমন মজা উপভোগকে অভিশাপের বিষয় মনে করি যাতে আমার রব অসন্তুষ্ট হন।
আপনি এ অশ্লীল পরিবেশে দৃষ্টি সংযত রাখতে পারলে আপনার অন্তরে এমন শক্তিশালী নূর সৃষ্টি হবে যা আপনাকে মহান আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দিবে। আর দৃষ্টি সংযত রাখতে না পারলে যে নূর অন্তরে রয়েছে তা-ও শেষ হয়ে যাবে।
যে কুদৃষ্টি করে তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন। কুদৃষ্টি সাধারাণ কোন গোনাহ নয়, কুদৃষ্টি হল, চোখের যিনা। বুখারী শরীফের হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, فزنا العين النظر চোখের যিনা হল, কুদৃষ্টি। লানত মানে কী? লানত অর্থ হল, আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া, দূরে থাকা। যে সকল নারী অর্ধউলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ায়, নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে তাদের প্রতিও লানত। যারা তাদের দেখছে তাদের প্রতিও লানত। আমাদের এ লানত থেকে আত্মরক্ষা করা আবশ্যক। যারা পীর সাহেবের বদ দুআকে ভয় করেন, শুনে রাখুন! যে রাসূলের দাসত্ব ও আনুগত্যের বিনিময়ে পীর সাহেব পীর হয়েছেন সে রাসূলের বদ দুআকে কতটা ভয় করা উচিৎ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ দুআ করছেন-
لعن الله الناظر والمنظور إليه
হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে আপনার রহমত থেকে বঞ্চিত করুন, দূরে ঠেলে দিন যারা আপনাকে ছেড়ে অন্যের পিছনে ঘুরে মরছে, যাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ অন্যের প্রতি আর তাদেরকেও যারা নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে। তারা তোমার অকৃতজ্ঞ ও অপদার্থ গোলাম। সে আপনার মতো করুণাময় পালনকর্তাকে ছেড়ে আপনার এক অক্ষম ও অপদার্থ গোলামের গোলামে পরিণত হয়েছে।
এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
النساء حبائل الشيطان
নারী হল শয়তানের (পুরুষ) শিকারের ফাঁদ। মেশকাত শরীফ
অর্থাৎ শয়তান নারীর মাধ্যমে পুরুষদেরকে গোনাহের জালে ফাঁসিয়ে দেয়। এ যুগে শয়তান নারীদের বেপর্দা করে আমাদের চলার পথের প্রতিটি কদমে কদমে চক্রান্তের জাল বিছিয়ে রেখেছে। নারীর সুন্দর চেহারা ও চুলের বাহার দেখিয়ে বিপথগামী করে। মূলত যে সকল বিষয় আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে তার সবগুলোই শয়তানের চক্রান্তজাল। চাই নারী হোক, সুন্দর বালক কিংবা অবৈধ সম্পত্তি বা অন্য কোন কিছু। যে সকল উপকরণের মাধ্যমে মানুষ প্রবৃত্তির দাসে পরিণত হয়, গোনাহে লিপ্ত হয় সে সব উপকরণই শয়তানের বিছানো জাল। এ যুগে যেহেতু বেপর্দা ও অশ্লীলতা ব্যাপকতা লাভ করেছে তাই এ সময়ে শয়তানের সবচেয়ে ভয়ানক জাল হল সুন্দর ও আকর্ষণীয় চেহারা।
গায়রে মাহরামদের থেকে শরয়ী পর্দা রক্ষা করার গুরুত্ব
একটি প্রশ্ন হতে পারে- ভাই বৌয়ের সঙ্গে এক দস্তরখানে বসে খাওয়া-দাওয়া করাও কি নিষেধ? আজকাল দেখা যায়, ঘরের কেউ দাড়ি রাখলে, মাথায় গোল টুপি পরলে, আল্লাহ আল্লাহ করলে, আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক দৃষ্টি সংযত রাখার জন্য ভাবী, মামী, চাচী, চাচাতো বোন, খালাতো বোন প্রভৃতি গায়রে মাহরামদের থেকে দৃষ্টি অবনত রাখে, তাদেরকে এড়িয়ে চললে তখন ঘরের সবাই তার ব্যাপারে আপত্তি করতে থাকে। গায়রে মাহরাম নারীদের সংস্পর্শ থেকে তো দূরে থাকতেই হবে। কারণ, নারীর সৌন্দর্যের বিষয় হল, কেউ যদি জানতে পারে তার দশ ফুট দূরে গায়রে মাহরাম নারী আছে তাহলে দূর থেকেই নারীর অস্তিত্ব অনুভব করতে থাকে। আগুনের উত্তাপ কেবল আগুনের সীমা পর্যন্তই সীমিত থাকে না; উত্তাপ সীমা ছাড়িয়ে আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ে। অজ্ঞতা বশত কেউ কেউ বলে থাকে, এক দস্তরখানে চার ভাই তাদের স্ত্রীদেরসহ বসতে সমস্যা কোথায়! প্রত্যেক ভাই একদিকে, বিপরীত দিকে স্ত্রীরা বসবে। আপনি যদি এ কথার উপর আমল করেন আর তাতে আপনার মানসিক অবস্থার অবনতি না হলে আমাকে বলবেন, আল্লাহ তাআলা কী কারণে এ ঘোষণা করেছেন-
تِلْکَ حُدُوْدُ اللهِ فَلَا تَقْرَبُوْهَا
গোনাহের সীমা থেকে বহু দূরে অবস্থান কর। সূরা বাকারা : ১৮৭
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
اللّٰهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ
হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গোনাহের মাঝে পৃথিবীর পূর্ব পশ্চিম সমপরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন। রাসূলে পাকের এ হাদীসের মর্ম কী? এখানে একটি অসম্ভব বিষয়কে শর্তযুক্ত করা হয়েছে অপর একটি অসম্ভব বিষয়ের সঙ্গে। অর্থাৎ পূর্ব-পশ্চিমের সম্মিলন যেমন কখনও ঘটতে পারে না তদ্রƒপ কোন খাঁটি উম্মতও স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে পাপের কালিমা দিয়ে আপন চেহারাকে কলঙ্কিত ও কালিমালিপ্ত করতে পারে না। তো কেউ যদি কাউকে বে-জায়গায় বসিয়ে দেয় যেমন কোন পরনারীর সঙ্গে বসিয়ে দিল তা হলে হাদীসের ভাষ্য মুতাবেক একজন প্রকৃত মুমিনের কর্তব্য হল, সেখান থেকে তৎক্ষণাৎ সরে পড়া। শিথিলতা দেখিয়ে তার পাশে বসে না থাকা। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতি হল কেটে পড়া ও পালিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি।
মনে রাখবেন, শরীয়তের বিধানে পিতা-মাতারও হস্তক্ষেপের কোন অধিকার নেই। আমাদের সকলেরই দৃঢ় বিশ্বাস যে, পিতা-মাতার চেয়ে মহান আল্লাহ পাক অনেক বড় অনেক ঊর্ধ্বে। তো পিতা-মাতা যদি কাউকে পরনারীর সঙ্গে বসতে কিংবা সম্পর্ক রাখতে বলে তা হলে কোমলভাবে, নরম স্বরে বলুন, আম্মাজান! আব্বাজান! মহান আল্লাহ পাকের নির্দেশের কারণে এক্ষেত্রে আমি একেবারে অপারগ ও অনন্যোপায় (তাই এক্ষেত্রে আপনাদের কথা রক্ষা করতে পারছি না।) এছাড়া আমি আপনাদের পেশাব-পায়খানা পরিষ্কার করতেও সানন্দে প্রস্তুত। এমন কি আপনাদের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত তবে খোদার দোহাই মহান পরওয়ারদিগারের নাফরমানীর নির্দেশ দিয়ে আমাকে জাহান্নামের ইন্ধন বানাবেন না। সাধ থাকলে এ ব্যাপারে সব উলামায়ে কেরাম থেকে ফতোয়া লিখিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে কেউ যদি এ ওযর দেখায় যে, ঘর ছোট, কামরা কম আলাদা আহার করার সুযোগ নেই তা হলে আমি বলব, সময় পরিবর্তন করে আহার করুন। এক সময়ে সকল মহিলারা একত্রে খেয়ে নিবে। তার পর পরই পুরুষরা খেয়ে নিবে। কিংবা পুরুষরা আগে খেয়ে নিবে তারপর মহিলারা আহার করবে। জামাতের সঙ্গে একত্রে খাওয়ার আবশ্যকীয়তা কোথায় পেলেন? জামাতের সঙ্গে একত্রে নামায পড়া ওয়াজিব, না জামাতের সঙ্গে একত্রে আহার করা? বিষয়টি ভালোভাবে মনে রাখবেন। ভালোভাবে মনে রাখবেন। ভালোভাবে মনে রাখবেন।
অনুবাদ, মাওলানা আব্দুল মুমিন
